ক্ষমা চেয়ে দাবি পূরণের আশ্বাসে ভিকারুননিসায় আন্দোলন স্থগিত ছাত্রীদের

গবর্নিং বডির সভাপতিসহ শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে সকল দাবি পূরণের আশ্বাসসে আন্দোলন স্থগিত করেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজের ছাত্রীরা। আজ পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষায়ও তারা অংশ নেবে। তবে শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর পর শিক্ষকদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ এনেছে ছাত্রীদের একটি অংশ। গ্রেফতার করা শিক্ষিকাকে নিরপরাধ দাবি করে তার মুক্তির আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

এদিকে অধিকাংশ দাবি পূরণের পর ছাত্রীরা ক্লাসে ফিরলেও সঙ্কট জিইয়ে রাখতে সক্রিয় হয়েছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থী অভিভাবকসহ স্থানীয় একটি বিশেষ গ্রুপ। গবর্নিং বডির নির্বাচনে পরাজিত কয়েক জন ও অভিভাবকদের একটি গ্রুপ বৃহস্পতিবার থেকেই ঘটনার দায় গবনির্ং বডির ওপর চাপানোর জন্য ভিকারুননিসার সাবেক কিছু ছাত্রী এনে আন্দোলন সক্রিয় করার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ এ গ্রুপটি হঠাৎ করে গবর্নিং বডির সকল সদস্যের পদত্যাগের দাবি এনে ‘শিক্ষার্থী অভিভাবক’ ব্যানান নাম দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ দাখিল করেছেন। বহিরাগত এসব ব্যক্তির সক্রিয় হওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারই বক্তব্য দিয়েছে ছাত্রীরা। তারা বলেছে, এখানে বহিরাগত ব্যক্তিরা প্রবেশ করেছে। কেউ যেন আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

এর আগে সহপাঠী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বুধবার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দেয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদাউসসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্দেশে বরখাস্ত করা হয় অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদাউস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার এবং শ্রেণীশিক্ষক হাসনা হেনাকে। অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্ত ছাড়াও তাদের এমপিও বাতিল করা হয়েছে। তারা তিনজনই সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি। এর মধ্যে বুধবারই গ্রেফতার করা হয় শ্রেণীশিক্ষক হাসনা হেনাকে।

শিক্ষক হাসনা হেনাকে বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সাঈদ শিক্ষকের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে নেয়ার আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে এই শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার। অপরদিকে তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জামিন পেলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে তিনি বিঘœ সৃষ্টি করবেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম জামিন আবেদন করে বলেন, তিনি এ ঘটনায় জড়িত নন। তার সম্পর্কে বাদী কোন অভিযোগও করেননি।

Please follow and like us:
comments

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *