প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল

প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। ব্রাজিলের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেছেন মিরান্ডা। প্রতিপক্ষের রক্ষণ চিরে একের পর এক আক্রমণ। গোলমুখে মুহুর্মুহু শট। প্রতি আক্রমণে বিপক্ষ দলের রক্ষণ ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া। মাঝমাঠ থেকে তেড়েফুঁড়ে উল্টোদিকের গোলপোস্টে ছুটে যাওয়া কিংবা লম্বা কোনো ক্রসে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের বিভ্রান্ত করে গোল দেওয়া…এসবের কিছুই হয়নি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা প্রীতি ম্যাচে।মঙ্গলবার সুপার ক্লাসিকোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে ব্রাজিল। তবে সেটা ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যোগ হওয়া সময়ে আর্জেন্টিনার দুর্বল রক্ষণের সুযোগ নিয়ে, নেইমারের অসাধারণ এক কর্নার কিক থেকে মিরান্ডার মাথা ছুঁয়ে পাওয়া গোলে। মোদ্দাকথা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচে যে আগুন ঝরার কথা ছিল তার কিছুই ছিল না সৌদি আরবের জেদ্দার স্টেডিয়ামে।সৌদির অন্যান্য শহরের তুলনায় জেদ্দা খানিকটা শীতল। সৌদি আরবে যাওয়া পর্যটকদের কাছে প্রিয় শহরগুলোরও একটি এই জেদ্দা। সেখানকার সমুদ্র সৈকতে গিয়ে অনেকেই গা জুড়িয়ে আসেন। সেই জেদ্দার বাদশাহ আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচটিতে ছিল চোখে পড়ার মতো দর্শক। ফুটবলপ্রেমীরা ভিড় করেছিলেন উত্তেজনায় ঠাসা এক ম্যাচ দেখবেন বলে। কিন্তু কিসের কী উত্তেজনা! পুরো ম্যাচে দুই দল মিলে গোলমুখে শট নিয়েছে ২৩টি। এর মধ্যে ব্রাজিলের শট ১২টি অন্য ১১টি শট আর্জেন্টিনার। এই ২৩ শটের বেশির ভাগই আবার দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে। মজার বিষয় হচ্ছে ২৩টি মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র ৪টি শট! ভাবা যায়? ভাবনার বাইরে হলেও এটাই সত্য। নেইমার-জেসুসরা ৩টি শট লক্ষ্যে রাখতে পারলেও ইকার্দি-দিবালারা গোলমুখে শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিলেন মাত্র ১টি!প্রথমার্ধে বল দখলে এগিয়ে ছিল তিতের শিষ্যরা। যদিও শুরুতে গোলের সুযোগ পেয়েছে মেসিবিহীন আর্জেন্টিনাই। অবশ্য সে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন জিওভানি। প্রথমার্ধেই ফের সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। সেটা অবশ্য ব্রাজিল গোলপোস্টে আস্থার প্রতীক আলিসনের ভুলে। এবারও গোল দিতে ব্যর্থ আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন ওতামেন্ডি। মিরান্ডার শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন ওতামেন্ডি। প্রথমার্ধের যোগ হওয়া সময়ে ডি-বক্সের সামান্য বাইরে ফ্রি-কিক পায় ব্রাজিল। কিন্তু মঙ্গলবারের ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা নেইমার আর্জেন্টাইন রক্ষণ দেয়ালে শট মেরে বসেন।দ্বিতীয়ার্ধে হলুদ কার্ড দেখেন ব্রাজিল পোস্টারবয় নেইমার। ম্যাচের শেষদিকে নেইমার বেশ কিছু ভালো সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। আর্জেন্টিনার রক্ষণও কেন জানি হ-জ-ব-র-ল হয়ে পড়ে। ব্রাজিলের গোলমুখে যে কটি শট নিয়েছে আর্জেন্টিনা সেগুলোর বেশির ভাগই ছিল এলোমেলো, বেপথু। ব্রাজিলেরও একই দশা। নির্ধারিত সময়ের খেলাও ততক্ষণে শেষ। শেষ বাঁশি বাজানোর আগে অতিরিক্ত চার মিনিট সময় দেন রেফারি। এই চার মিনিটে দুই দলের কেউ যদি গোলের দেখায় পায়। ওতামেন্ডি গোলের দেখে পেয়েই গিয়েছিলেন। অল্পের জন্য গোলবঞ্চিত হন তিনি। তবে সেটা নিজেদের জালে! গোলপোস্টের সামন্য বাইরে দিয়ে ওতামেন্ডির শট চলে গেলে আত্মঘাতী গোলের হাত থেকে রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

যোগ হওয়া সময়ের শেষ মিনিটে কর্নার কিক পায় ব্রাজিল। নেইমারের অসাধারণ শটে ফাঁকায় থাকা মিরান্ডা মাথা ছোঁয়ালে গোল পায় ব্রাজিল।

সূত্র- প্রথম আলো

Please follow and like us:
comments

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *